ধরুন কাল থেকে প্রতিদিন পাঁচ কিলোমিটার করে জগিং করবেন বলে ডিসিশন নিলেন। কাল খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলেন, রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলেন। অনেক আগ্রহ নিয়ে দৌড় শুরু করে দেখলেন যে পারছেন না, একটানা দুই মিনিট দৌড়ানোর পরে বুকের মধ্যে খামচি দিয়ে ধরছে। দীর্ঘদিন ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি না থাকার কারণে জং পড়ে গেছে আপনার হার্টে, আপনার শরীরের প্রায় প্রতিটি অংশেই। মনে মনে হয়তো চিন্তা করবেন, ”আহা! ছোটবেলায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাপিয়ে বেড়াতাম, কিছুই মনে হতো না!”

তার পরেরদিন সকালে দুইটা জিনিস ঘটতে পারে আপনার জীবনেঃ

১। হয় আগেরদিনের কষ্টকর অভিজ্ঞতার এবং শরীরের টনটনে ব্যাথার কথা চিন্তা করে হাল ছেড়ে দেবেন আপনি। চিন্তা করবেন, আমার দ্বারা এসব হবেনা। এবং…কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে যাবেন আবার। স্যরি টু সে…আপনি এখনও ঠেলায় পড়েননি; বাস্তবতা কি সেটা বুঝতে আরেকটু সময় পার করতে হবে আপনার।

২। পরেরদিন সকালে আবার দৌড়াতে বের হবেন আপনি, আরও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে (সাধারণত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কিছু মানুষ অথবা সেলফ মোটিভেটেড কিছু মানুষ ই এটা পারে। আপনার সিচুয়েশনই বলে দেবে আপনি কোন দলের)। খেয়াল করে দেখবেন, আগের দিন দুই মিনিট দৌড়ানোর পরে বুকে ব্যাথা শুরু হলেও এদিন সেই ব্যাথা শুরু হবে পাঁচ মিনিট দৌড়ানোর পরে। তার পরেরদিন দেখবেন টানা ৭-৮ মিনিট দৌড়াতে পারছেন। ১০-১২ দিন পরে গিয়ে দেখবেন টানা ৩০ মিনিট দৌড়াতেও কোন সমস্যা হচ্ছেনা আপনার।

চাকুরীর নিয়োগ পরীক্ষা অথবা এমবিএ ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন ও ঠিক এমন ই। স্কুল লাইফে করে আসা ম্যাথস এবং ইংলিশ ই পারছেন না এখন আর। কারণ, ব্রেইনে জং পড়ে গেছে। মনের বিরুদ্ধে হলেও প্রতিদিন প্র্যাকটিস করে আগে এই মরিচা ছুটাতে হবে। অংক করতে গিয়ে কঠিন মনে হচ্ছে, পরেরদিন আর ওপথ মাড়ালেন না। আপনার আর প্রিপারেশন নেওয়া হবেনা। জবের বয়স যখন ৩০ ছুঁই ছুঁই করবে…তখন হতাশায় পড়তে থাকবেন আস্তে আস্তে। তার আগ পর্যন্ত বাবুসোনা’র সাথে সারারাত ফোনে কথা বলে সারাদিন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখা।

ভালো একটা চাকুরী যখন জোটাতে পারবেন না তখন দেখবেন আপনার সেই বাবুসোনা আরেকজনের গলায় চ্যাম্পিয়নের মেডেল পরিয়ে দিচ্ছে। আপনার স্বপ্ন ভাঙ্গার তখনই শুরু। হতাশা নিয়েই ৩০ পার করে ফেলবেন। তারপর চাকুরীর বয়স ৩৫ করার জন্য আন্দোলন করবেন। টিটকারি মেরে না ভাই, আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেই বলছি…চাকুরী্তে অ্যাপ্লাই করার সর্বশেষ বয়স ৩৫ না, ৫৫ করলেও আপনাদের ৯৫% এর চাকুরী হবেনা।

যে সাঁতারু হতে চায় সে দ্যাখেন এই কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও দিনে দুইবার সুইমিং পুলে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করছেনা মোটেই। আপনি ভালো একটা চাকুরী পেতে চান, বা এমবিএ ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে চান…মন না চাইলেও আপনাকে ইংলিশ আর ম্যাথসের লেসনের মধ্যেই ডুবে থাকতে হবে। মাফ নেই কোন! তাহলে ছয়মাস পরে আপনিও ৩০ টা অংকের মধ্যে ২৫ টা করে আসতে পারবেন।

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ, আইবিএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

এমবিএ (আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)