…প্রতিটি মানুষের কাছেই পরম আরাধ্য একটি বিষয়। সবাই ই জানে, এটি এমনই একটি বিষয় যা অর্জন করতে পারলে সাফল্য অর্জন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র! দুঃখজনক বিষয় হলো এটি জীবনের কোন সেট করা বিষয় না যে আপনার বাবা-মায়ের কনফিডেন্স থাকলে আপনিও কনফিডেন্ট হবেন, কিংবা আপনি ধনী ঘরে জন্ম নিলেই আপনি অটোম্যাটিক্যালি সেলফ কনফিডেন্স নামক মূল্যবান গুণটি পেয়ে যাবেন; বরং সেলফ কনফিডেন্স হলো এমন একটি “স্টেট অফ মাইন্ড” যা জীবনে চলার পথে অর্জন করে নিতে হয় সবাইকেই। ঠেকে ঠেকে শিক্ষা নেওয়া যাকে বলে।

 

কিভাবে সেলফ কনফিডেন্স অর্জন করা যায় তা নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।তবে এ নিয়ে কিছু বলার আগে কনফিডেন্স এর আরও দুইটি অবস্থা সম্পর্কে না বললেই নাঃ

 

১। Low Confidence বা Lack of Confidence :

একে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়…এক হচ্ছে আপনি আসলেই কিছু পারেন না যেকারণে আপনার মধ্যে কনফিডেন্সের অভাব রয়েছে। দুই, আপনি আসলে হাতি, কিন্তু আপনি মনে করেন আপনি পিঁপড়া। এই দুই নম্বর অবস্থাটি খুবই ভয়ংকর। আপনার যথেষ্ট ক্যাপাবিলিটি থাকা সত্ত্বেও আপনি কিছু অর্জন করতে পারছেন না একারণে। এর পিছনে বেশ কিছু কারণও আছে যদিও। সব বিষয়ে নেগেটিভ থিংকিং, মানুষের ক্রিটিসিজম, লোকে কি বলবে, নিজের স্ট্রেংথ অ্যানালাইসিস না করেই কিছু করতে যাওয়া, অথবা কিছু করতে গিয়ে বার বার ব্যার্থ হওয়া…এগুলোই সবচেয়ে বড় কারণ এ সমস্যার পিছনে। বিশেষ করে আমাদের এখানে চাকুরীর পরীক্ষা যারা দিচ্ছেন তাদের অনেকই এ সমস্যাতে ভুগে থাকেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থতা এ সমস্যাকে আরও গভীর করে।

 

২। Over Confidence :

এটি হচ্ছে Lack of Confidence এর ঠিক উল্টা জিনিস। আপনি আসলে পিঁপড়া, কিন্তু আপনি ভাবেন আপনি হাতি। আপনার মধ্যে পজিটিভ থিংকিং টা এতোই বেশী যে এটা আপনার জন্য নেগেটিভ হয়ে গেছে…হা হা হা।

এনিওয়ে…সেলফ কনফিডেন্স এমনিতেই আপনার মধ্যে ডেভেলপ করবে এটি ভাবলে ভুল করবেন। এর জন্যও পরিশ্রম করতে হবে। সায়েন্টিস্টরা বলেন…কোন কাজ করতে আপনার পর্যাপ্ত কনফিডেন্স আছে কি-না তা আসলে নির্ভর করবে তিনটি জিনিসের উপরেঃ

  • Knowledge
  • Skill
  • Experience/Practice

এই নিয়ম সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ম্যাথস করার ক্ষেত্রে হোক, পাবলিক স্পিকিং এর ক্ষেত্রে হোক, প্রেজেন্টেশন স্কিল এর ক্ষেত্রে হোক, মুভি মেকিং এর ক্ষেত্রে হোক, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর ক্ষেত্রে হোক, মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে হোক, আর চুরি-ডাকাতি করার ক্ষেত্রেই হোক।

 

ধরুন, আপনি Ratio & Proportion চ্যাপ্টারের অংক করবেনঃ

আপনার যদি Ratio & Proportion সম্পর্কিত নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা থাকে তাহলে আপনার Knowledge আছে।

এ সম্পর্কিত একটা গাণিতিক সমস্যাকে কিভাবে ধাপে ধাপে ক্র‍্যাক ডাউন করবেন তা জানা থাকলে আপনার Skill ও আছে।

এই নিয়মের অংক যদি আপনি শ’দুয়েক করে থাকেন তাহলে আপনার Experience/Practice ও হয়ে গেলো যথেষ্ট পরিমাণে।

 

এবার আপনি বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন…যেখান থেকে খুশী Ratio & Proportion এর অংক দেন; চোখ বন্ধ করে সব করে দেবো।

 

হ্যাঁ ভাই….এটাকেই বলে সেলফ কনফিডেন্স!

 

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ, আইবিএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

এমবিএ (আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)