প্রচুর মানুষ অদ্ভুত একটি বিষয়ে আমার কাছে জানতে চায়…

এ প্রশ্ন শুনে আমি কিছুক্ষণ তব্দা খেয়ে বসে থাকি। বুঝিনা যে কি উত্তর দেবো।

তারপরেও জোরাজুরি করলে আমি কাউন্টার প্রশ্ন করি, “প্রিলিতে ম্যাথ করতে পারেন না?”

বেশীরভাগের জবাব, “প্রিলিতে সমস্যা হচ্ছেনা, কিন্তু রিটেনে ম্যাথসে সমস্যা হচ্ছে”

সিরিয়াসলি?!!!

রিটেন ম্যাথস আসলে কি? প্রিলিতে একটা ম্যাথমেটিক্যাল সমস্যার উত্তরটা বসিয়ে দিয়ে আসছেন আপনি। ওই উত্তরটা কি আপনি হাওয়া (যেসব এলাকার লোকজন সব অক্ষরকে “হ” উচ্চারণ করেন তারা “হাওয়া” র জায়গায় “বাতাস” পড়বেন) থেকে পেয়েছেন? ওই উত্তরটা বের করতে আপনাকে কিছু প্রোসেস ফলো করতে হয়নি? ওই প্রোসেসটাই তো রিটেন ম্যাথ, তাই না? রিটেন ম্যাথস নিশ্চয় আলাদা প্রজাতির কিছু না যেটা মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছে। প্রিলিতে আপনি শুধু উত্তরটা বসিয়ে দিয়ে আসছেন, আর সে উত্তরটা কিভাবে পেয়েছেন সেটা বর্ণনা করাটাই হচ্ছে ম্যাথসের রিটেন ফরম্যাট।

এবার ভাবুন তো….আপনি প্রিলিতে অংক করতে পারছেন কিন্তু রিটেন ফরম্যাটে সেটা করতে পারছেন না! হোয়াট দ্যা ফুচকা! এ কেমন কথা!

তারমানে দাঁড়াচ্ছে…আপনার ওই ম্যাথস শেখার মধ্যে ব্যাপক গোলমাল আছে। আমি জানিনা কিসের গোলমাল আপনার শেখার মধ্যে। আপনার ভিতরের গোলমাল আপনাকেই আইডেন্টিফাই করতে হবে। নাহলে দিনশেষে আপনিই ধরা খাবেন।

 

তবে দীর্ঘদিন পোলাপাইন পড়ানোর অভিজ্ঞতার কারণে আমি মোটা দাগে দুইটি কারণ বলতে পারিঃ

১। কনসেপ্টে সমস্যা/শর্টকার্ট মেথডের উপরে বেশী ডিপেন্ডেবল হওয়াঃ

শর্টকাট হচ্ছে একটা কম্পিউটার প্রোগ্রামের মতো বিষয়। একজন এই প্রোগ্রামটি বানিয়ে দিয়েছে। কিভাবে বানিয়েছে সেটা ইউজাররা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই জানেন না; তারা জাস্ট এর মধ্যে ইনপুট দেন…এবং টিপ মারলেই তাদের কাংখিত আউটপুট পেয়ে যান। ইউরেকা! কি মজা, কষ্ট কম লাভ বেশী। পুরাই ডেসটিনি-২০০০ লি. এর মতো! যেটাতে কষ্ট কম লাভ বেশী, সেটাতে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় পুরোটাই।

এনিওয়ে…শর্টকাট মেথডে বেশী বিশ্বাসী হলে আপনি রিটেনে কখনোই ভালো করতে পারবেন না। কারণ আপনি ইনপুট-আউটপুট সম্পর্কে জানলেও প্রোসেসের উপরে আপনার বিন্দুমাত্র দখল নেই।

সুতরাং… বিভিন্ন জায়গায় শর্টকাট মেথড না খুঁজে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করুন আগে।

 

২। অংক মুখস্থ করার প্রবণতাঃ

জ্বী…ঠিকই পড়েছেন। আপনাদের মধ্যে ৮০% স্টুডেন্টরাই অংক মুখস্থ করেন। আপনাদের টেবিলের উপরে সাজানো থাকে শত শত অংকের বই। আপনারা সেখান থেকে দেখে দেখে শুধু বারবার করেই যাচ্ছেন একেকটা অংক। একটা অংক ১০ বার করলে আলটিমেটলি মুখস্থ হবেই সেটা। একবারও কোন অংক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছেন না। ভাইরে…এপটিটিউড টেস্টগুলোর যে সিলেবাস তাতে এতো বেশী পড়ার কিছু নেই যে বছরের পর বছর সাধনা করেও এর উপরে ভালো দখল নেওয়া যাবে না। বছরখানেক সময় দেন সঠিকভাবে। আর আটকাবেন না। মুখস্থ করার থেকে শেখার দিকে ফোকাস করেন বেশী। আরেকজনের করে দেওয়া অংক না দেখে নিজেরা চেষ্টা করেন।

এনিওয়ে…ইদানীং নতুন এক যন্ত্রণায় আছি। চিটাগং এর অনেকেই আমার কাছে পড়ার জন্য ফোন করছেন যেহেতু এখানে এসে পড়ানো শুরু করেছি আবার। তাদের একটা কথা শুনলে অবাক হই, “আপনি কি AUST বা আর্টস ফ্যাকাল্টির অংকগুলো প্র‍্যাকটিস করাবেন?”

সিরিয়াসলি…ম্যান? এগুলোও আলাদাভাবে করাতে হবে! মনে রাখবেন… আপনি যদি অংক ভালোভাবে শিখে ফেলতে পারেন একবার তাহলে AUST, আর্টস ফ্যাকাল্টি, বা মঙ্গল গ্রহের কোন ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি যে ই প্রশ্ন যে ই করুক না কেন সবই সমাধান করতে পারবেন আপনি।

সেটা তো করবেন না…কারণ আপনাদের ম্যাক্সিমামই প্রচন্ড রকম আলসে। গ্রুপে কোন একটা প্রশ্ন দিলে ইনবক্স বিভিন্ন প্রশ্নে ভরে যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী যে প্রশ্ন থাকে তা হলো, “ভাইয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকে পরীক্ষা দিতে সিজিপিএ কতো লাগে/ আইবিএ তে পরীক্ষা দিতে সিজিপিএ কতো লাগে?”

 

আরে ভাই…এটা আপনি নিজে দেখে নিতে পারেন না একটা সার্কুলার থেকে? এটার জন্যও আপনার মানুষকে জিজ্ঞেস করা লাগে ইনবক্সে? এটুকুও যদি না পারেন নিজে করতে তাহলে আপনার দ্বারা কিছুই সম্ভব না। আপনাদের দরকার সবকিছুর রেডিমেইড ভার্সন। AUST এর প্রশ্ন নিয়ে বই, আর্টস ফ্যাকাল্টির প্রশ্ন নিয়ে বই! সব বানিয়ে দিক অন্য মানুষ, আপনারা শুধু মুখস্থ করে যাবেন!

 

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ, আইবিএ(ঢাবি)