আপনাদের সকলের দোয়ায় গত ৩ মার্চ, ২০২০ তারিখে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের “সহকারী পরিচালক ও সহকারী মেইনটিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার” পদে মেধায় “২য় স্থান” অর্জন করে উত্তীর্ণ হয়েছি।
আজ থেকে ঠিক ২ বছর আগে এই সময়ে “অর্থ মন্ত্রণালয়ের” অধীন “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের” “সহকারী প্রোগ্রামার”, প্রথম শ্রেণির আই.টি. প্রকৌশল পদটিতে “বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন” (বিপিএসসি) কর্তৃক সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ প্রাপ্তির কথা ছিল। কিন্তু আই.সি.টি.-এর পুরনো নিয়োগ-বিধি সংশোধনের বেড়াজালে সেই সময়ে আমাদের কয়েকজনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। প্রথম প্রথম সরকারি চাকুরি পাওয়া নিয়ে এতো জটিলতায় আমি হতাশ হয়ে পড়লেও, কখনো ভেঙ্গে পড়িনি, হাল ছাড়িনি। মহান আল্লাহ’তালার উপর বিশ্বাস রেখেছি। আর আজ ২ বছর পর মহান আল্লাহ্’তালা আগের চেয়ে অনেক ভালো জায়গায় রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন, আরো বহুগুন সম্মান বাড়িয়ে মেধা তালিকায় “২য়” করেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হওয়ার গৌরব অর্জন অনেকক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস সমূহের সমতুল্য কিংবা তার চেয়েও বেশি।
তাই যেসব চাকুরিপ্রার্থী পছন্দের কর্মক্ষেত্রে সুযোগ লাভের আশায় খুব অল্পতেই হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিচ্ছেন, তাদের বলবো, ধৈর্য ধরুন, সৎ নিয়তে আল্লাহ্’তালার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখুন, পরিশ্রম করে যান, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমাদের জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করবেন।
এই পর্যায়ে আমার প্রশিক্ষক ও মটিভেটরদের কথা না বললেই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে Eclectic Education সেন্টার সব সময় ছিলো আমার পাশে। আমার দুইজন মেন্টর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক শাকিল ভাই ও মোয়াজ্জেম ভাই ছিলেন আমার প্রধান ইন্সপ্যারেশন ও মোটিভেটর। শাকিল ভাইয়ের ম্যাথ বুঝানোর ক্যাপাবিলিটি আসাধারণ। শুরুতে কীভাবে অঙ্কের সমস্যা বুঝতে হয় এবং সেই অনুযায়ী কীভাবে একশন নিতে হয়, এই দক্ষতা অর্জনের মূল কারিগড়ই ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ইংরেজিতে সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে গেলে কী কী বিষয় খেয়াল রাখতে হয়, অর্থাৎ, মোয়াজ্জেম ভাইয়ের ফোকাস রাইটিং কোর্সটি ছিলো এক কথায় অনন্য। আপনাদের ক্ষেত্রে বলতে চাই, টেকনিক্যাল হউক কিংবা সাধারণ পরীক্ষা, কোন পরীক্ষায় আপনি ম্যাথ, ইংরেজি ও আইটি থেকে রেহায় পাবেন না। এতে সর্বচ্চো গুরুত্ব দিতেই হবে, না হলে চাকুরি পাওয়ার এই তীব্র প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বেন নিশ্চিত। শুধু আমার উদাহরণ দেই, যেখানে ২০০ নম্বরের রিটেনে জেনারেল পার্ট (ম্যাথ, ইংরেজি ইত্যাদি) ছিল ৮০ নম্বর আর বাকি ১২০ নম্বর ছিল আমার টেকনিক্যাল পার্ট। দেখাই যাচ্ছে যে, একটি বিশাল অংশ জেনারেল পার্ট, যেখানে খারাপ করলে আপনার কোন ভাবেই নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ নেই। বরং টেকনিক্যাল পার্টে সবাই ভালোই করে, কিন্তু জেনারেল পার্টে যারা ভালো করে তারাই নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। তাই জেনারেল পার্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সব শেষে সবাইকে এটুকু বলতে পারি, বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় ও স্বপ্নের চাকুরি পেতে Eclectic Education এর কোর্সসমূহ আপনার বহুমাত্রিক উপকারে আসবে এবং যা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
মোহাম্মদ ইয়াসবির চৌধুরী (অভিলাষ)
সহকারী পরিচালক ও সহকারী মেইনটিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার (সুপারিশপ্রাপ্ত)
B.Sc. in EEE, Master in Information Technology (IT), MBA (Dhaka University)
Master of Engineering in Advanced Engineering Management (AEM), BUET