এডি (জেনারেল) নিয়োগের সার্কুলার অলরেডি পেয়ে গেছেন। প্রিলি এক্সাম আসতে আসতে হাতে মোটামুটিভাবে পাঁচ-ছয়মাস সময় পাবেন। এই পাঁচ-ছয় মাসে কোন টপিকের জন্য কি কি বই পড়লে ভালো হবে তা নিয়ে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমি সাধারণত বইয়ের লিস্ট দিই না। কিন্তু এতো মানুষ এটার জন্য রিকুয়েস্ট করছে এজন্য না দিয়ে পারলাম না।

এডি (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে পাঁচটি সাবজেক্ট থেকে। গণিত, ইংরেজি, বাংলা, সাধারণ জ্ঞান আর আইটি। আমি সবগুলো সাবজেক্টের জন্য আলাদা আলাদাভাবে বলার চেষ্টা করছিঃ

গণিতঃ
বেসিক কিছুটা ভালো না থাকলে পাঁচ মাসে ম্যাথস কাভার করাটা কষ্টকর। তবুও যারা এই পাঁচ মাসের মধ্যেই কিছু একটা করবেন এরকম টার্গেট করে আছেন তাদের জন্য আমার পরামর্শ প্রথমে কাপলান জিআরই/জিম্যাট ম্যাথ ওয়ার্কবুক টা শেষ করে ফ্যালেন। এর সাথে কম্বিনেটরিকস এর অংকগুলো করবেন ইন্টারমিডিয়েট এর ম্যাথস বই থেকে এবং প্রোব্যাবিলিটি করবেন নোভা ম্যাথ বাইবেল থেকে (প্রোব্যাবিলিটি থেকে ব্যাংক জব নিয়োগ পরীক্ষায় অংক কম থাকে, কারও কাছে বেশী কঠিন মনে হলে স্কিপ করতে পারেন) । প্রতিটি চ্যাপ্টারের ডিসকাশনগুলো ভালোভাবে স্টাডি করবেন যেন কনসেপ্টে আগে ঘাটতি থাকলেও যতটুকু সম্ভব সেটা পূরণ হয়ে যায়। প্র‍্যাকটিস শুরু করবেন অফিসিয়াল জিম্যাট রিভিউ ১০/১১ তম এডিশন থেকে। ৪৪১ টা অংক বুঝে বুঝে করে ফেলবেন। এরপর সরাসরি চলে যাবেন আগের বছরের পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন সলভিং এ। প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি নিয়োগের আগের প্রশ্নগুলো। এরপর ব্যাংকার্স সিলেকশনের পরীক্ষাগুলোর যতগুলো প্রশ্ন পাওয়া যায়। প্রশ্ন সলভ করবেন খুব স্ট্র্যাটেজিক্যালি; রিয়েল এক্সামের সময় ম্যাথস পার্টের জন্য যতটুকু সময় বরাদ্ধ করেন সেই সময়েই ম্যাথসগুলো করতে চেষ্টা করবেন।

ইংরেজিঃ
গ্রামার অংশের জন্য টোফেলের যেকোন একটা বই পড়বেন। আই রিপিট, যেকোন একটা। কারণ সব বইয়েরই কনটেন্ট সেইম। সবাই ক্লিফ টোফেল পড়তে পরামর্শ দেয়। কিন্তু ক্লিফ’স টোফেলের স্টাইল আপনার পছন্দ নাও হতে পারে (আমার পছন্দ হতো না); সেক্ষেত্রে আপনার যেটা পছন্দ হবে সেটাই করেন।
ভোকাব্যুলারির জন্য ওয়ার্ড স্মার্ট & করতে পারেন। আমি নিজে অবশ্য ভোকাব্যুলারি মুখস্থ করতে খুব অপছন্দ করতাম বলে আরেকটা বই থেকে আরও কম সংখ্যক ভোকাব্যুলারি মুখস্থ করেছিলাম (সেই বইয়ের ভোকাব্যুলারি অংশের পিডিএফ আপলোড করে দেবো সামনে)। সেখান থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক, আইবিএ, বিআইবিএম এর পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমন পেয়েছিলাম। মাথায় রাখবেন, ভোকাব্যুলারি যেটা মুখস্থ করবেন সেটা কিন্তু প্রতিদিন রিভিউ করতে হবে, নাহলে ভুলে যাবেন।
এরপর প্র‍্যাকটিস করা শুরু করবেন বিভিন্ন সোর্স থেকে। টোফেলের বিভন্ন বইয়ের এক্সারসাইজগুলো করে ফেলবেন প্রথমে। তারপর প্রথমে এডি নিয়োগ পরীক্ষার আগের বছরগুলোর প্রশ্ন এবং তারপর ব্যাংকার্স সিলেকশনের নেওয়া পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন। এরপরেও কিছু করতে চাইলে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইভনিং এমবিএ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো করতে পারেন।

বাংলাঃ
ব্যাকরণের জন্য মাস্টারপিস একটাই…নবমদশম শ্রেণীর জন্য বোর্ডের বইটি। সাহিত্য সম্পর্কে পড়ে শেষ করতে পারবেন না। সুতরাং এটা নিয়ে এতো প্যাড়া না নিয়ে সরাসরি আগের বছরের প্রশ্ন মুখস্থ করে ফ্যালেন (বিসিএস এবং ব্যাংক জবের সব প্রশ্ন)

সাধারণ জ্ঞানঃ
সিলেবাসের কোন সীমা নেই। বই মুখস্থ না করে বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পিএসসি আন্ডারে যত পরীক্ষা হইছে সবগুলোর প্রশ্ন মুখস্থ করে ফ্যালেন।

আইটিঃ
সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার রিলেটেড কিছু কমন টপিক আছে (র‍্যাম, রম, অপারেটিং সিস্টেম টাইপ) যেগুলো থেকেই ৫০-৬০% প্রশ্ন পড়ে সব পরীক্ষায়। এগুলো ভালো করে শিখে ফ্যালেন সবার আগে। এরপর বিগত বছরের সব প্রশ্ন পড়ে ফেললে দেখবেন এর বাইরে আইটির প্রশ্ন কমই আসে।

মাথায় রাখবেন, সময় কিন্তু অনেক কম। এই সময়ে বাংলা, সাধারণ জ্ঞান আর আইটি পিছনে বেশী সময় না দিয়ে ম্যাথস আর ইংলিশ সেকশনের জন্য বেশী প্রায়োরিটি দিতে হবে। কারণ, এই দুই সেকশনেই মেইন খেলাটা হয়। এখানে যারা পারে তারা ভালো করবে, আর যারা পারবেনা তারা পুরো ধরাশায়ী হবে। লাইফ কিন্তু আপনাকে বার বার সুযোগ দেবেনা!

শুভকামনা সবার জন্য 

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ, আইবিএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)