অনেকেই দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি (জেনারেল) নিয়োগ পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং আছে কি-না তা নিয়ে খুবই কনফিউজড। বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি নিয়োগ পরীক্ষায় গত ১০ বছরে সম্ভবত শুধুমাত্র গতবারই নেগেটিভ মার্কিং ছিলো না। আপনারা অনেকেই ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির পরীক্ষার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষাকে গুলিয়ে ফেলছেন৷ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয় হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ডিপার্টমেন্ট যার একমাত্র কাজ সরকারী বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯ম ও ১০ম গ্রেডে কর্মকর্তা নিয়োগের সকল কাজ পরিচালনা করা। অন্যদিকে হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টের কাজ অনেক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রিক্রুটমেন্ট, প্ল্রেসমেন্ট, প্রোমোশন, ট্রান্সফার, সুযোগ-সুবিধা যাবতীয় কাজ পরিচালনা করে এ ডিপার্টমেন্ট।

যাহোক, আসল কথায় আসি। বাংলাদেশ ব্যাংক হোক আর ব্যাংকার্স সিলেকশনই হোক…কারো পরিচালিত নিয়োগ পরীক্ষার পলিসিতেই নেগেটিভ মার্কিং নিয়ে কোন পলিসি নেই। এটা পুরোপুরি ডিপেন্ড করে পরীক্ষার টেন্ডার পাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপরে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইকোনমিক্স বা আইবিএ’র মতো, তাহলে তারা কোয়ালিটি নিয়ে বিন্দুমাত্র আপোষ করবেনা; এবং এদের পরীক্ষা নেগেটিভ মার্কিং ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে এখনকার বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানই প্রশ্নপত্রের কোয়ালিটির দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের প্রফিটের দিকে আগে নজর দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে নেগেটিভ মার্কিং থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। উল্টা প্রশ্নপত্রের পৃষ্টা কমিয়ে খরচ বাঁচানোর জন্য ১০০ টার (২ পাতা লাগে) জায়গায় ৮০ টা (১ পাতার মধ্যেই হয়ে যায়) প্রশ্নও পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, সবসময় যে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা এসব লো কোয়ালিটি প্রতিষ্ঠানই সবসময় কাজ পাবে ব্যাপারটা এরকম না। সামনের দিনে চেঞ্জড একটা সিচুয়েশন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

এখন নেগেটিভ মার্কিং ফেইস করার স্ট্র‍্যাটেজি নিয়ে কিছু বলতে চাই।

নেগেটিভ মার্কিং থাকলে কি করবেনঃ

একটা জিনিস সবসময় মনে রাখবেন। একটা পরীক্ষা শুরুর আগে অবশ্যই অবশ্যই ইন্সট্রাকশন পড়বেন। অনেকে হয়তো বলতে পারেন, “ইনভিজিলেটর রা তো বলে দেন।” ভুলে যেয়েন না, ইনভিজিলেটররা বলে দেননি এরকম উদাহরণ প্রচুর। একারণে অনেকের পরীক্ষা খারাপ হতেও দেখেছি অনেকের।

আসল বিষয় হচ্ছে, প্রশ্নপত্রের ইন্সট্রাকশন বলে দেওয়ার দায়িত্ব ইনভিজিলেটরদের না। ওইগুলো পড়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনাদের। সবকিছু মুখে তুলে নিয়ে খেতে খেতে আপনাদের অনেকেরই অভ্যাস হয়ে গেছে যে আপনারা এক্সপেক্ট করেন সবকিছুই রেডিমেইড পেয়ে যাবেন জীবনে (ডোন্ট গেট অফেন্ডেড, তিতা একটা সত্য কথা বললাম এক্সপেরিয়েন্স থেকে)।

মাথায় রাখবেন, নেগেটিভ মার্কিং থাকলে অবশ্যই সেটা ইন্সট্রাকশনে লেখা থাকবে।

নেগেটিভ মার্কিং থাকলে একটাই পরামর্শ…যেসব উত্তর নিয়ে বিন্দুমাত্রও কনফিউশন থাকবে সেগুলো স্ট্রেইট ছেড়ে দিতে হবে। গতদিনের লেখায় বলেছি, নেগেটিভ মার্কিং কখনও কাউকে ক্ষমা করেনা।

তবে যদি দ্যাখেন এক্সাম খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে; মানে ১০০% জানা প্রশ্নের উত্তর ৩০-৩৫ টার নীচে হয়ে যাচ্ছে, তখন আরও ১০-১৫ টা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে “প্রসেস অব এলিমিনেশন” অ্যাপ্লাই করতে পারেন। কি জিনিস এটা? এটা অ্যাপটিটিউড টেস্ট এর প্রশ্ন ফেইস করার ক্ষেত্রে দুনিয়া জুড়ে সবচেয়ে সমাদৃত স্ট্র‍্যাটেজি। এই সিস্টেমে কোনভাবেই উত্তর হওয়ার সম্ভাবনা নেই এরকম অপশনগুলো শুরুতেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ধরুন, এরকম একটি প্রশ্নঃ

মুরগীর ডিম দেখতে কেমনঃ

ক. ওভাল খ. গোলাকার গ. আয়তাকার ঘ. সবুজ ঘ. সাদা

উপরের প্রশ্নে দ্যাখেন, ৫ টি অপশনের মধ্যে আয়তাকার এবং সবুজ কোনভাবেই উত্তর হতে পারেনা। সুতরাং উত্তরের অপশন হতে এই দুইটা স্ট্রেইট বাদ। একেই বলে “প্রসেস অব এলিমিনেশন”। বাকীগুলো হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে এরকম উদাহরণ আমি জাস্ট ব্যাপারটা আপনাদের বুঝানোর জন্য বললাম। স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপটিটিউড টেস্টে এরকম কনফিউজিং প্রশ্ন থাকবেনা। তবে আর্টস ফ্যাকাল্টি টাইপের কেউ পরীক্ষা নিলে থাকতেও পারে 

নেগেটিভ মার্কিং না থাকলে কি করবেনঃ

স্ট্রেইট উত্তরঃ সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দাগাবেন। একটাও যেন খালি না থাকে।

তবে মাথায় রাখবেন, যে প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আপনি সামান্যও কনফিউজড, সেটি নিয়ে এক সেকেন্ড চিন্তা করলেও পস্তাবেন। অ্যাপটিটিউড টেস্টে সবচেয়ে বড় শত্রু সময়। যে যত ভালোভাবে টাইম ম্যানেজ করতে পারবে তার এখানে জেতার সম্ভাবনা ততো বেশী। প্রথমেই ১০০% জানা উত্তরগুলো দিয়ে দেবেন। এরপর আসা উচিৎ সেই ” প্রসেস অব এলিমিনেশন” এর খেলা। ধরুন আপনি একট পরীক্ষায় ১০০ টা প্রশ্নের মধ্যে ৫৫ টার উত্তর নিশ্চিতভাবে জানেন। আগে এই ৫৫ টার উত্তর দেন। তারপর খুঁজে দ্যাখেন কয়টা প্রশ্নের ক্ষেত্রে আপনি ২ বা ততোধিক উত্তর এলিমিনেট করে দিতে পারেন। এ সংখ্যা যদি হয় ২৫ টা তাহলেই দেখবেন অনেক এগিয়ে যাচ্ছেন। তখন এই ২৫ টা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তারপর বাকী প্রশ্নগুলোর উত্তর সবগুলো একই দিয়ে দিতে পারেন (সবগুলো ক অথবা সবগুলো গ…এভাবে। আপনি চাইলে এলোপাথাড়িও দিতে পারেন। আপনার মনে যা চায় তাই করবেন)। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতেই হবে…আপনি যথেষ্ট কনফিউজড এরকম প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করবেন না। চিন্তা করলেই যে আপনার কনফিউশন দূর হয়ে যাবে এরকম না ব্যাপারটা। বরং একটা প্রশ্নের পিছনে সময় নষ্ট না করে সেই সময় আরও ৫ টা প্রশ্নের পিছনে দিতে পারবেন।

সবমিলিয়ে আমার পরামর্শ হচ্ছে নেগেটিভ মার্কিং আছে এরকম ধরে নিয়েই প্রিপারেশন নেওয়া বা স্ট্র‍্যাটেজি সেট করা। তাহলে ব্যাংক জব নিয়োগ পরীক্ষার স্ট্র‍্যাটেজি নিয়েও আপনার বিসিএস বা আইবিএ’র পরীক্ষা দিতেও সুবিধা হবে অনেক।

শুভকামনা রইলো সবার জন্য 

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ, আইবিএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)