বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক থেকে সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিচালক পদে যাওয়া যায়। এই পদে কম সুদে বিভিন্ন ধরনের ঋণ নেওয়ার সুবিধাসহ রয়েছে অন্যান্য সুবিধাও, যা অন্য অনেক সরকারি চাকরিতে নেই। এ ছাড়া এখানে নিয়োগের এক বছর পর চাকরি স্থায়ী হলে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাংক-সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এই ব্যাংক থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তাই অনেকের কাছেই এই চাকরি বেশি লোভনীয়।

সহকারী পরিচালক পরীক্ষায় অংশ নিতে চাইলে স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরমেয়াদি স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পরীক্ষায় সনাতন পদ্ধতিতে প্রকাশিত ফলাফলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়।

গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এসএসসি বা সমমান, এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৩ বা এর ওপরে পেলে প্রথম বিভাগ, দুই থেকে ৩ এর কম দ্বিতীয় বিভাগ এবং এক থেকে দুই তৃতীয় বিভাগ হিসেবে গণ্য হবে। অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট চার হলে ৩ বা এর ওপরে প্রথম বিভাগ, ২.২৫ থেকে ৩-এর কম দ্বিতীয় বিভাগ, ১.৬৫ থেকে ২.২৫-এর কম তৃতীয় বিভাগ হিসেবে গণ্য হবে। আর পয়েন্ট স্কেল ৫ হলে ৩.৭৫ বা এর ওপরে প্রথম বিভাগ, ২.৮১৩ থেকে ৩.৭৫-এর কম দ্বিতীয় বিভাগ এবং ২.০৬৩ বা ২.৮১৩-এর কম তৃতীয় বিভাগ হিসেবে গণ্য হবে।

মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং প্রতিবন্ধী ছাড়া সবার ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স হতে পারে ৩২ বছর। আগ্রহী প্রার্থীদের শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত সনদ অনুযায়ী ডিগ্রি ও ফলাফলের তথ্য দিতে হবে।

অনলাইন আবেদনে প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। আবেদন করার সময় অন্যান্য নিয়ম ও শর্তাবলি পাওয়া যাবে। আবেদন করার সময় ট্র্যাকিং নম্বরটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে কোনো কাগজপত্র প্রদান করতে হবে না। লিখিত পরীক্ষার পর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আবেদনে উল্লিখিত তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দলিল দিতে হবে।

সুযোগ-সুবিধাসহ নানা কারণেই মেধাবীদের অত্যন্ত পছন্দের চাকরি এটি। কাজেই এই পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে থাকে। যাঁরা এই পরীক্ষায় আবেদন বা অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁরা জোর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন।