বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (জেনারেল) পদে নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ২৭ ডিসেম্বর। দেড় লক্ষাধিক চাকুরীপ্রত্যাশী পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন।

 

হাতে সময় আছে মাত্র ৪ দিন। এই ৪ দিন সময় কিভাবে কাজে লাগাবেন আপনি সেটা নিয়ে কিছু পরামর্শ দিতে চাচ্ছি৷ এগুলো জাস্ট কিছু পরামর্শ হিসেবেই নেবেন, এগুলো মানা বা না মানাটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের সিদ্ধান্ত।

 

১। এসব পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানসিক প্রস্তুতিকে খাটো করে দেখলে চলবেনা। শেষের দিকে বেশী প্র‍্যাকটিস করার থেকে স্ট্র‍্যাটেজি সেট করাটাই বেশী লাভজনক। তাহলে পরীক্ষার হলে গিয়ে কনফিউজড হতে হবেনা। কি কি স্ট্র‍্যাটেজি সেট করে রাখতে পারেন এ সময়েঃ

 

ক. কোন বিষয়ে আগে উত্তর দেবেন, কোনটি পরে। আগে ইংরেজি দিয়ে শুরু করবেন, নাকি বাংলা, নাকি সাধারণ জ্ঞান, নাকি অংক…এটা আপনাকে আগে থেকেই ঠিক করে নিয়ে এক্সাম হলে ঢুকতে হবে। অবশ্যই মাথায় রাখবেন, “হোয়াটএভার দ্যা সিচুয়েশন ইজ…আপনি এই স্ট্র‍্যাটেজি কোনভাবেই চেঞ্জ করবেন না।”

 

খ. টাইম ডিসট্রিবিউশন কিভাবে করবেন সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখবেন। যদি বাংলার জন্য সময় ধরে রাখেন ৫ মিনিট, তাহলে সেটা যেন ৫ মিনিটই থাকে। এক্সাম হলে গিয়ে যেন আগের সেট করা স্ট্র‍্যাটেজি চেঞ্জ না হয়ে যায়।

 

গ. সঠিকভাবে সময় কাজে লাগাতে হবে। ইংরেজির জন্য যদি সময় বরাদ্ধ থাকে ১০ মিনিট, তাহলে এই ১০ মিনিটে ম্যাক্সিমাম কতগুলো ইংরেজির প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া যায় সেদিকে ফোকাস করবেন। মাথায় রাখবেন, ইংরেজির জন্য বরাদ্ধকৃত ১০ মিনিটের জায়গায় যদি খরচ করে ফ্যালেন ১৫ মিনিট, তাহলে কিন্তু ম্যাথসের জন্য ৩০ মিনিট বরাদ্ধ করলেও আসলে পাবেন ২৫ মিনিট। ইংরেজিতে আগেই ৫ মিনিট খেয়ে নেবে। মনে রাখবেন, সাধারণ জ্ঞানের একটি প্রশ্নের উত্তর মনে করতে পারছেন না দেখে গালে হাত দিয়ে ৫ মিনিট ধরে সেটি মনে করার চেষ্টা করলে কিন্তু আখেরে কোন লাভ হবেনা। গণিত অংশে ভালো করতে হলে এতটুকু এফিসিয়েন্সি থাকতে হবে যেন একটা গাণিতিক সমস্যা দেখে সাথে সাথেই বুঝতে পারেন যে প্রশ্নটি আপনি সলভ করবেন নাকি স্কিপ করবেন। মনে রাখবেন, যেকোন অ্যাপটিচিউড টেস্টে মূল বাধা হলো সময়। আপনাকেই ডিসিশন নিতে হবে আপনি একটা ডিফিকাল্ট প্রশ্নের পিছনে মাথার চুল ছিঁড়ে ৭-৮ মিনিট নষ্ট করে ফেলবেন, নাকি এই সময়ে সহজ সহজ ৫ টি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। দিনশেষে কিন্তু একটাই সত্য, সব প্রশ্নের মান সমান। সুতরাং একটা কঠিন প্রশ্নের পিছনে ৭-৮ মিনিট নষ্ট না করে এই সময়ে ৫ টা প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাই আপনার জন্য ভালো হবে।

 

ঘ. এসব পরীক্ষায় যেকোন অকওয়ার্ড সিচুয়েশনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন মানসিকভাবে। অংক আগে ৩০ টা দিতো এবার কেন ৬০ টা দিলো, নতুন ধরণের প্রশ্ন কেন দিলো, আগে আইটি থেকে প্রশ্ন আসতো এবার কেন দেয়নি… এসব নিয়ে পরীক্ষার হলে নাকিকান্না শুরু করবেন না। এসব পরীক্ষার কোন স্পেসিফিক পলিসি নেই। সব ধরণের অ্যাডভার্স সিচুয়েশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন।

 

২. এই অল্প সময়ে নতুন কিছু না পড়তে যাওয়াটাই ভালো। বাংলা, সাধারণ জ্ঞান, আইটি এগুলোর যতটুকু পড়েছেন এতদিন সেগুলো যদি পারেন একবার করে রিভিউ করে যাবেন (জাস্ট স্কিমিং করা)।

 

৩. ইংরেজির নিয়ম এবং ম্যাথস এর সূত্র গুলো রিভিউ করে নেবেন আবার। তবে যে জিনিসটা খুব ভালোভাবে রিভিশন করতে ভুলবেন না তা হচ্ছে ভোকাব্যুলারি।

 

শুভকামনা রইলো সবার জন্য

 

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ (আইবিএ, ঢাবি)