কিছদিন হলো ব্যাংক জব নিয়ে কয়েকটি হাস্যকর কয়েকটি অভিযোগ বা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি।

১। কোন একজন আমাকে বললেন, আপনার সাজেশন সেকেলে। এখনকার ফ্যাকাল্টি ভিত্তিক প্রশ্নগুলো খুব কঠিন হয়। তাই ফ্যাকাল্টিভিত্তিক প্রিপারেশন ছাড়া কোনভাবেই ব্যাংকে চাকুরি পাওয়া যাবে না। যদিও ভাইটি কোন ব্যাংকে চাকুরি করে না। এক-দুইটি পরীক্ষায় প্রিলিমিনারীতে টিকেছে।

২। আরেকজন জানালো, আপনারা সহজে চাকুরি পেয়েছেন কারণ আপনি আইবিএ থেকে পড়াশোনা করেছেন। এজন্য ভাইবাতে আপনাদেরকে সহজে পাশ করিয়ে দেয়।

৩। একজন বলে, আপনারা মেধাবী। আল্লাহ আপনাদের অনেক মেধা দিয়েছে তাই কম পড়াশোনা করেই চান্স পেয়ে গেছেন। আর আমরা কয়েক বছর প্রিপারেশন নিয়েও চান্স পাইনা।

 

আমার উত্তর আপনাদের প্রতি:

১। ভাই আমরা সেকেলে হলেও আপনাদের একালের প্রশ্ন আমাদের কাছে কঠিন বা দুঃসাধ্য মনে হয়না। কারণ আমরা ব্যাসিকের উপর গুরুত্ব দিয়েছি, মুখস্ত বিদ্যায় নয়। আমার দেখা অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের বছরের পর বছর প্রিপারেশন নিয়ে সময় কাটাতে দেখেছি এইসব প্রশ্ন কমন পাওয়ার টেন্ডেসি থেকে। আপনাদের কালে আসা কঠিন প্রশ্নও আমাদের সমাধানে বেগ পেতে হয়না। আমাদের সময় ওয়েবসাইট ছিলনা বা এত বইও ছিলনা। তাই ব্যাসিক ডেভেলপমেন্টই ছিলো মূখ্য। আপনি ফ্যাকাল্টি নির্ভর প্রিপারেশন নিতে পারেন, তবে আগে ব্যাসিক তৈরি করে। তার আগে নয়।

২। ভাই আমরা ভার্সিটি বা আইবিএ নয় চাকুরি পেয়েছিলাম মেধায়। এই মেধা মেধাবী ছাত্রের মেধা নয়। এই মেধা একজন সাধারণ ছাত্রের পরিশ্রমের ফসল। আমি মেধাবী কথাটা একদম বিশ্বাষ করতে চাইনা। সবই পরিশ্রমের ফসল । আমি ভাগ্য বিশ্বাষ করি কিন্তু এটাও জানি ভা্গ্য তার প্রতিই সুপ্রশন্ন যে নিজে চেষ্টা করে। তাই আপনার চাকুরি হবে নিজ যোগ্যতা (আপনার পরিকল্পপিত পরিশ্রম), ভার্সিটির ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নয়।

৩। আমি দেখেছি অনেকেই দুই-তিন বছর ধরে আইবিএ বা ব্যাংক জবের প্রিপারেশন নেয়। ৬-৭ টা বই শেষ করেও পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্ত সাফল্য আসেনা। অথচ বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রীই পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে বিগত বছরের প্রশ্ন ঘাটাঘাটি করেই চান্স পেয়ে যায়। তার মানে কি চান্স পাওয়া ব্যক্তিটি পড়াশোনা না করেই চান্স পেয়েছে!!!??? অবশ্যই না। আসলে ওই ব্যক্তি পড়াশোনা শুরু করেছে ছোট্ট বেলা থেকে যেখানে সে খুব কম ফাকি দিয়েছে। আর আপনি বা আমরাতো সারা জীবন ফাকি মেরে এসে এখন সিরিয়াস । হিসেব করলে চান্স পাওয়া ব্যক্তিটির চেষ্টা আপনার বা আমার চেয়ে অনেক বেশি। সে হয়ত কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য কম পড়েছে কিন্তু তার পড়াশোনা আমাদের থেকে ঢেড় বেশি।

আসলে সাফল্যের কোন শর্টকাট নেই। যারা সাফল্যের শর্টকাট খোজে, তারাই বিভিন্ন অজুহাত নিয়ে সামনে হাজির হয়। প্রশ্ন কমন, ফ্যাকাল্টি বেজ প্রিপারেশন বা ব্যাকগ্রাউন্ড, মামা-চাচা খোজা মানেই আপনি শর্টকাট মারতে চান। যার ফলাফল কোনভাবেই ভাল হয়না।

 

ধৈর্যসহকারে পরিকল্পিতভাবে নিয়মিত পরিশ্রম করে যান। সাফল্য আসবেই। ধৈর্যসহকারে পরিকল্পিতভাবে নিয়মিত পরিশ্রম হাজারে মাত্র ১ জন করতে পারে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি ৯৯৯ জনের একজন হতে পারেন অথবা আপনি অন্যদের থেকে আলাদা একজন হতে পারেন।

আজ এ পর্যন্তই

শুভকামনায়

হাসানুল পান্না শাকিল

উপপরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক