চাকুরীর নিয়োগ অথবা এমবিএ ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন এমন প্রায় সকলেরই কমন একটা প্রশ্ন।

এই জায়গাটাতে সফলতা বলতে আমি চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার কথা বোঝাচ্ছি, ২-৪ টি প্রিলি বা রিটেনে কোয়ালিফাই করাকে বোঝচ্ছিনা।

 

উপরের প্রশ্নের জবাব দেওয়া আসলে খুবই ডিফিকাল্ট। আপনার সফলতা কতোদিনে আসবে সেটা নির্ণয় করা খুবই টাফ।

 

আপনার এই যাত্রায় থাকবে দুইটি ধাপঃ

 

১ম ধাপে থাকবে আপনার মাইন্ডসেট করার পালা যে আসলে আপনি কি চাচ্ছেন। আপনাকে এই ধাপে আপনার জীবনের প্রায়োরিটি সেট করতে হবে। অবশ্য দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রায়োরিটি এমনিতেই সেট হয়ে যায়। তখন বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডকে ফোনে অটোম্যাটিক্যালি ঝাড়ি দেওয়া হয়ে যায়, ”ফোন রাখো, পড়তে হবে” বলে। তবে মাথায় রাখবেন, এই ”দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া” র অনুভূতিটা যেন চাকুরীতে এপ্লাই করার বয়স আর তিনমাস বাকী আছে এরকম সময়ে যেন না আসে! তখন আর কিছুই করার থাকবেনা চাইলেও। (অনেকেই আমাকে নক দিয়ে জানান, ”ভাই, আর দুইমাস বাকী আছে, এখন কিভাবে প্রিপারেশন নিতে পারি?” পারলে কেঁদে ফ্যালে তখন কোনমতে সান্তনা দিয়ে বিদায় করি। বড়জোর অল্টারনেটিভ কোন রাস্তা দেখিয়ে দিই)

 

২য় ধাপে শুরু হয় প্রস্তুতি নেওয়া। এই ফেইজটা খুব ধৈর্য্য নিয়ে চলতে হয়। বারবার ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলবেন। বিশেষ করে যখন দেখবেন যাদের সাথে একসাথে প্রিপারেশন শুরু করেছিলেন তারা একটু একটু করে বিভিন্ন জায়গায় কোয়ালিফাই করতে শুরু করলেও আপনার হচ্ছেনা কোনভাবেই। ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলবেন না। এই ২য় ধাপে এসে বিখ্যাত সেই উক্তির কথা স্মরণ করবেন আর আগাবেন… ”Your time will come!” এই উক্তির উপরে বেইজ করে শতশত মোটিভেশনাল ভিডিও পাবেন ইউটিউবে। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানও পাবেন। হেডফোন কানে গুঁজে সেসব গান শুনবেন আর পড়বেন। চাইলে অবসর সময়ে সেসব মোটিভেশনাল ভিডিওর ভয়েসও চোখ বন্ধ করে শুনতে পারেন। উদ্দীপনা যোগাবে যথেষ্ট পরিমাণ…বিলিভ মি! এই ধাপে শুধু পড়াশোনার দিকেই ফোকাস করলে ভুল করবেন। পরীক্ষার হলে স্ট্র্যাটেজি ম্যাটারস। মক টেস্ট দেবেন রেগুলার। এসময়ে স্ট্র্যাটেজিগুলো আয়ত্ব করে নেবেন আস্তে আস্তে। এই ধাপ শেষ হবে যখন আপনার প্রস্তুতি যথেষ্ট হবে। যদি দ্যাখেন ১০ টা প্রিলি এক্সামের মধ্যে অন্তত ৮ টাতে কোয়ালিফাই করতে পারছেন, তখন ধরে নেবেন প্রস্তুতি যথেষ্ট হয়েছে।

 

এবার ক্রমাগত পরীক্ষা দেওয়ার পালা। শুরুতে বেশীরভাগ পরীক্ষায় দেখবেন প্রিলি হলেও রিটেন হচ্ছেন, বা রিটেন পর্যন্ত টিকে গেলেও ভাইভাতে বাদ পড়ছেন। হতাশ হওয়ার কিছুই নেই এই পর্যায়ে এসে। মাথায় রাখবেন…”Your time will come very soon!” সময় শুধু প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে ক্রমাগত ছাড়িয়ে যাওয়া।

 

এবারে আসি কেমন সময় লাগবে এ প্রশ্নে। আগেই বলেছি, খুবই ডিফিকাল্ট এর উত্তর দেওয়া। কারও লাগবে ৩ মাস, কারও ৬ মাস, কারও আবার লেগে যাবে ১ বছর /২ বছর। সময় ডিপেন্ড করবে আপনার ডেডিকেশনের উপর, আর আপনার অতীত কর্মের উপর। যে ছেলেটা বুয়েটে লেখাপড়া করেছে সে আগের জীবনে ফাঁকি দেয়নি বললেই চলে। তার হয়তো পাস করার পরে কোন সময়ই লাগবেনা, সে পরীক্ষা দিলেই দেখা যাবে সবখানে টিকে যাচ্ছে। কারণ তার আগের জীবনের পুরোটা জুড়েই প্রস্তুতি নেওয়া আছে। নতুন করে কিছুই করার দরকার নেই। আবার হয়তো ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন ২ মাস পড়েই টিকে যাচ্ছে ভালো জায়গাগুলোতে। অন্যদিকে আপনার হয়তো আগের জীবনের পুরোটাই ফাঁকি। আপনাকে এই ফাঁকির জায়গাগুলো ফিল আপ করেই অন্যদের সাথে টেক্কা দিতে হবে।

 

বুঝতেই পারছেন, ১০০ মিটারের একই রেসে নামলেও যারা ফাঁকি দেয়নি তাদের অনেকেই দৌড়াবে আসলে ৪০ মিটার (জীবনের আগের বিভিন্ন পর্যায়ে এদের প্রিপারেশন অটোম্যাটিক্যালি হয়ে গেছে), কেউ হয়তো ৭০ মিটার, আবার কেউ ১০০ মিটার। অন্যদিকে সেই দৌড়ের স্টার্টিং পয়েন্টে যথাসময়ে আসতেই দেখা যাবে আপনাকে দৌড়াতে হচ্ছে আরও ২০০ মিটার। আপনার থেকেও যে পিছিয়ে আছে তাকে হয়তো দৌড়াতে হবে ৫০০ মিটার। তারমানে, ১০০ মিটারের দৌড়ে অন্য অনেকেই ৪০ মিটার দৌড়ালেও আপনাকে দৌড়াতে হচ্ছে ৩০০ মিটার! বুঝতেই পারছেন কতটুকু গ্যাপ! এই গ্যাপ পার করতে আপনাকে কতটুকু শারীরিক সক্ষমতা বানাতে হবে, কতটুকু মানসিক সক্ষমতা বানাতে হবে, আর কত বেশীই বা প্র্যাকটিস করতে হবে!

 

আর এই গ্যাপ পুর্ণ করতে কতটুকু সময় লাগবে, সেটা একমাত্র আপনিই বুঝতে পারবেন, অন্য কেউ পারবেনা!

 

ফেরদৌস কবির

ডেপুটি ডিরেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক

এমবিএ, আইবিএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

এমবিএ (আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)