ইনবক্সে অনেকগুলো টেক্সট দেখলাম যেগুলো উত্তর আমি এখানে একসাথেই দিয়ে দিচ্ছি। তাহলে হয়তো অনেকের উপকার আসবে।

১। বেসিক লেভেলঃ দেখুন, আইবিএতে চান্স বা ব্যাংক এ জব পেতে হলে আপনাকে ইংরেজিতে ম্যাথ করতে হবেই। তাই বেসিক লেভেলে আপনি যে বইটি থেকে হেল্প নেন না কেন, আপনাকে ম্যাথটা ইংরেজিতে করতে হবেই। অনেকেই ক্লাস 5 থেকে ক্লাস 10 এর ম্যাথকরতে বলে ব্যাসিক তৈরির জন্য, তবে অবশ্যই ম্যাথ বইএর ইংরেজি ভার্শন টা দেখতে হবে।

২। এবার আসি, আগারওয়াল নিয়ে। Quantitative aptitude বইটি আসলেই কাজের। প্রচুর ম্যাথ আছে অনুশীলন করার জন্য। একই ধরনের ম্যাথ আছে প্রচুর। তাই ভালো প্রস্তুতির জন্য এটি অনেক কাজের। তবে বই এর আকার দেখে ভয় পাবেন না। আইবিএর প্রচুর প্রশ্ন এখান থেকে কমন আসে। বিবিএ এবং এমবিএর প্রশ্ন হাতে নিয়ে দেখুন যদি বিশ্বাস না হয়! কমন থেকে বড় বিষয় হলো প্রচুর প্রাকটিস এর সুযোগ রয়েছে |

৩। বিগত বছরের প্রশ্ন যে কোন একটি বই থেকে দেখে নেবেন। সাইফুরস বা মেন্টর এর টা ভাল হয়। সলুশন না দেখে প্রাকটিস করা উচিত |

৪। এবার ম্যাথ শেখার জন্য কিছু এপ্রোচ জানা যাক। কেবল ম্যাথ করতেই হবে এমন নয়। অনেক সময় দেখা যায়, যে প্রচুর ম্যাথ করেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না এটা নিয়েই এই লিখাটা লিখছি এখন। ম্যাথকে একটু ভিজুয়ালাইজ করে নেয়া শিখতে হবে। এটা খুব কাজের। যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ম্যাথ কেন করি আমরা, উত্তর হবে আমরা ম্যাথ করি, বাস্তব জীবনের ক্যালকুলেশন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য। তাই যতই আমরা ম্যাথ করিনা কেন, যদি বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক না দাঁড় করাতে না পারি, তাহলে ম্যাথে দুর্বলতা থেকেই যাবে।এটাই ব্যাসিক|

যেমন, একটা ম্যাথ করা যাক।

ধরি, ১০ জন মানুষ দিনে ১২ ঘন্টা কাজ করে ১৫ দিন একটি কাজ শেষ করে। তাহলে, ১৫ জন মানুষ, দিনে ৮ ঘন্টা কাজ করলে কাজটি কত দিনে শেষ হবে?

উত্তরঃ ধরি, তাদের ক দিন লাগবে কাজটি শেষ করতে।

হয়ত আপনি নিচের মত এক লাইনেই সমাধান করতে পারবেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে এখানে এই সম্পর্ক টা এসেছে কোথা থেকে?

১০×১২×১৫ = ১৫×৮×ক

যদি সময় হাতে নিয়ে আপনি এই বেসিক গুলো ভাল ভাবে বুঝতে পারেন, তাহলে অনেক কঠিন অংক হবে আপনার জন্য পানির মত সহজ।

এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত লিখার ইচ্ছে আছে। মতামত জানাবেন।

৫। এবার কথা বলি দ্রুত ক্যালকুলেশন নিয়ে। আপনি চাইলে অনেক শর্ট কার্ট প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। তবে এটা সত্য নিজের মাইন্ড সেট আপ এ যদি অধিক অনুশীলনের ভিত্তি না থাকে, তবে কোন কিছুতেই কোন উপকার হয় না।

ধরি, ১২.১৫ এর সাথে ১২ কে গুন করতে হবে। দেখুন, কত আপনি চাইলে হাতে কলমে না করে নিচের মত ভেবে মুখে মুখেই করতে পারেন।

১২ কে ১০ দিয়ে গুন করলে পাই ১২০। এরপর আরো ২ দিয়ে গুন করলে ২৪। তাহলে মোট পাই, ১৪৪। এবার .১ দিয়ে গুন করলে পাই ১.২ এবং যদি আমরা .০৫ দিয়ে গুন করতে যাই, সেটা কিন্তু .১ এর অর্ধেকের সমতুল্য যা হবে .৬। তাহলে ১.২ এবং .৬ এর সমষ্টি হবে ১.৮। তাহলে মোট হবে ১৪৫.৮। প্রথম দিকে একটু কষ্ট লাগবে কিন্তু একবার এতে দক্ষ হয়ে গেলে খুব কঠিন যোগ-বিয়োগ-গুন-ভাগ আপনি সহজেই করতে পারবেন। এটা চলিত নিয়ম

এরকম আরো অনেক বিষয় আমার আইবিএ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তুতিতে সাহায্য করেছিল।

ধন্যবাদ সবাইকে|

হাসানুল পান্না শাকিল

ডিডি, বাংলাদেশ ব্যাংক

আইবিএ, এমবিএ, ব্যাচ ৪৭ ই